Sunday, April 12, 2026
spot_img
Home শেরপুর ঝিনাইগাতীতে অবৈধ বালু-পাথর উত্তোলনে গারো পাহাড় ধ্বংসের পথে

ঝিনাইগাতীতে অবৈধ বালু-পাথর উত্তোলনে গারো পাহাড় ধ্বংসের পথে

9
media image
ছবি

ঝিনাইগাতী প্রতিনিধি: শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলায় অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী গারো পাহাড় দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ বালু ও পাথর উত্তোলনের কারণে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ময়মনসিংহ বন বিভাগের রাংটিয়া রেঞ্জের আওতাধীন এই পাহাড়টি গত প্রায় দুই দশকে নির্বিচারে খননের ফলে অনেকাংশে ন্যাড়া ও বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।

পাহাড় বেয়ে নেমে আসা ঝর্ণা, খাল ও নদীর তীরবর্তী এলাকায় অবৈধভাবে বালু-পাথর উত্তোলন অব্যাহত থাকায় প্রাকৃতিক ভারসাম্য মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হয়েছে। এক সময়ের সবুজে ঘেরা মনোরম গারো পাহাড় এখন তার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য অনেকটাই হারিয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘ ২০ বছর ধরে একটি সংঘবদ্ধ চক্র এই অবৈধ ব্যবসা চালিয়ে আসছে। পাহাড়ের বাকাকুড়া, তাওয়াকুচা, বালিজুরি, গজনি, গান্দিগাঁও, ছোট গজনি ও বড় গজনিসহ বিভিন্ন এলাকায় তারা সিন্ডিকেট গড়ে তোলে। এ ব্যবসার মাধ্যমে অনেকেই বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন। তাদের হুমকি-ধামকির কারণে সাধারণ মানুষ এতদিন মুখ খুলতে সাহস পাননি।

অভিযোগ রয়েছে, বন বিভাগের এক শ্রেণির অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীর যোগসাজশে এ অবৈধ কার্যক্রম দীর্ঘদিন ধরে চলেছে। গজনি ফরেস্ট বিটে জব্দকৃত বালু-পাথরের স্তূপ এখনও তার প্রমাণ বহন করছে। যদিও এ বিষয়ে কিছু মামলা হয়েছে, তথাপি মূল হোতারা রহস্যজনক কারণে ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়ে গেছেন।

এ বিষয়ে গজনি বিট কর্মকর্তা সালেহীন জানান, সরকার পরিবর্তনের পর একটি চক্র বন ধ্বংসের অপচেষ্টা চালায়, যা কঠোরভাবে দমন করতে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের নজর এড়িয়ে কোথাও অবৈধ উত্তোলন চললে খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

নবাগত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আল আমীন দায়িত্ব গ্রহণের পরই জেলা প্রশাসক তরফদার মাহমুদুর রহমানের নির্দেশনায় গারো পাহাড় রক্ষায় কঠোর নজরদারি শুরু করেছেন। ইতোমধ্যে তিনি একাধিক অভিযান পরিচালনা করে অবৈধ বালু উত্তোলনের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করেছেন এবং বালুবাহী যানবাহন জব্দ করেছেন।

ইউএনও আল আমীন বলেন, অবৈধ বালু উত্তোলনের বিষয়ে কঠোর হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। এর সঙ্গে জড়িত কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। ২৪ ঘণ্টার যে কোনো সময় অভিযান চলবে এবং পাহাড় ধ্বংসকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

গারো পাহাড় রক্ষায় প্রশাসনের এই উদ্যোগকে স্থানীয় সচেতন মহল ইতিবাচক হিসেবে দেখলেও, তারা টেকসই সমাধানের জন্য নিয়মিত নজরদারি ও কঠোর আইন প্রয়োগের দাবি জানিয়েছেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here