পবিত্র ঈদুল ফিতরের ছুটি উপলক্ষে শেরপুর জেলার বিভিন্ন পর্যটন কেন্দ্রে ভ্রমণপিপাসু মানুষের ব্যাপক সমাগম ঘটেছে। ঈদের চতুর্থ দিনেও জেলার জনপ্রিয় পর্যটন স্পটগুলো দর্শনার্থীদের পদচারণায় মুখর হয়ে ওঠে।

জেলার নালিতাবাড়ি উপজেলার মধুটিলা ইকোপার্ক, ঝিনাইগাতী উপজেলার গজনি অবকাশ কেন্দ্র, পানিহাতা সহ বিভিন্ন দর্শনীয় স্থানে সকাল থেকেই পর্যটকদের ভিড় লক্ষ্য করা যায়।

নালিতাবাড়ী উপজেলা সদর থেকে প্রায় ১৪ কিলোমিটার উত্তরে পোড়াগাঁও ইউনিয়নে অবস্থিত মধুটিলা ইকোপার্ক। ময়মনসিংহ বন বিভাগের ব্যবস্থাপনায় ৩৮০ একর বনভূমির ওপর গারো পাহাড়ের মনোরম পরিবেশে ২০০০ সালে পার্কটি নির্মাণ করা হয়। পার্কে প্রবেশের পর সারি সারি বৃক্ষরাজি, খোলা প্রান্তর এবং বিভিন্ন পণ্যের দোকান দর্শনার্থীদের আকর্ষণ করে। এছাড়া রয়েছে পাহাড়ি ঢালু পথ, লেক, স্টার ব্রিজ এবং বিভিন্ন প্রাণীর ভাস্কর্য যেমন হাতি, হরিণ, রয়েল বেঙ্গল টাইগার, সিংহ, বানর ও কুমির।

পার্কের পর্যবেক্ষণ টাওয়ারে উঠলে দেখা যায় ভারতের সীমান্তবর্তী পাহাড়ি অঞ্চল ও সবুজ বনভূমির অপরূপ দৃশ্য, যা দর্শনার্থীদের মুগ্ধ করে।

অন্যদিকে, শেরপুর জেলার অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র গজনি অবকাশ। ১৯৯৩ সালে তৎকালীন জেলা প্রশাসকের উদ্যোগে এ অবকাশ কেন্দ্রের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়। বর্তমানে জেলা ও স্থানীয় প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে এর উন্নয়ন কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। জেলা সদর থেকে প্রায় ২৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এই কেন্দ্রটিতে সড়কপথে সহজেই যাতায়াত করা যায়।

গজনি অবকাশ কেন্দ্রে রয়েছে বিভিন্ন নান্দনিক ভাস্কর্য ও বিনোদন ব্যবস্থা—যেমন বন্য হাতি, ডাইনোসর, জিরাফ, হরিণ, মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিসৌধ, মৎস্যকন্যা এবং জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের প্রতিকৃতি। এছাড়া রয়েছে গারো মা ভিলেজ, ঝুলন্ত সেতু, সুড়ঙ্গপথ এবং কৃত্রিম লেক।

পাহাড়ের চূড়ায় নির্মিত প্রায় ১৬৫ ফুট উচ্চতার পর্যবেক্ষণ টাওয়ার থেকে দেখা যায় বাংলাদেশ ও ভারতের মেঘালয় অঞ্চলের বিস্তৃত পাহাড়ি দৃশ্য। টাওয়ারে থাকা বাইনোকুলারের মাধ্যমে দূরবর্তী প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করা যায়।

শিশুদের জন্য গড়ে তোলা হয়েছে ‘চুকুলুপি চিলড্রেন পার্ক’, যেখানে রয়েছে গজনী এক্সপ্রেস ট্রেন, নাগরদোলা ও মেরি-গো-রাউন্ডসহ নানা বিনোদন সামগ্রী। এছাড়া দর্শনার্থীদের জন্য রয়েছে নামাজের ব্যবস্থা, বিশুদ্ধ পানির জন্য রিংওয়েল ও গভীর নলকূপ এবং গেস্টরুম সুবিধা।

ঝিনাইগাতী উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা আল আমীন জানান, গজনি অবকাশ কেন্দ্রটি ইতোমধ্যে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে। পর্যটন শিল্পের বিকাশের মাধ্যমে এ অঞ্চলকে অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ করা এবং বেকারত্ব দূর করার সম্ভাবনা রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

ঈদের ছুটিতে প্রকৃতির সান্নিধ্যে সময় কাটাতে শেরপুরের এসব পর্যটন কেন্দ্র এখন হয়ে উঠেছে ভ্রমণপ্রেমীদের অন্যতম গন্তব্য।