Sunday, December 7, 2025
spot_img
Home শেরপুর শেরপুরের গারো পাহাড়ে মধু আহরণে ব্যস্ত মৌচাষিরা

শেরপুরের গারো পাহাড়ে মধু আহরণে ব্যস্ত মৌচাষিরা

2
media image
ছবি

গোলাম রব্বানী টিটু : শেরপুরের গারো পাহাড়জুড়ে শুরু হয়েছে বাণিজ্যিক মৌচাষের মৌসুম। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত সাতক্ষীরা, দিনাজপুর, বগুড়া, চাঁদপুর, নরসিংদীসহ অন্তত ২০-২৫টি জেলা থেকে আসা প্রায় চার শতাধিক মৌচাষি এখন শ্রীবরদী, ঝিনাইগাতী ও নালিতাবাড়ী উপজেলার সীমান্তবর্তী পাহাড়ি এলাকায় জমজমাটভাবে মধু আহরণে ব্যস্ত সময় পার করছেন। সবুজ পাহাড়ের বুকজুড়ে সৃষ্টি হয়েছে মৌচাষিদের এক বিরল মিলনমেলা।

মৌচাষিদের প্রত্যেকের কাছেই রয়েছে গড়ে ৪০০ থেকে ৫০০টি মৌবক্স। পাহাড়ি অঞ্চলের আবহাওয়া ও পরিবেশ অনুকূল থাকায় এ মৌসুমে মধুর উৎপাদন লক্ষণীয়ভাবে বেড়েছে বলে জানান তাঁরা। চাষিদের ভাষ্য, প্রতি ৮ থেকে ১০ দিন অন্তর প্রতিটি বাক্স থেকে ৪ থেকে ৫ কেজি মধু সংগ্রহ করা সম্ভব হচ্ছে।

উৎপাদিত মধু স্থানীয়ভাবে খুচরা ও পাইকারি উভয় বাজারেই বিক্রি হচ্ছে। বর্তমানে পাহাড়ি ফুলের মধু মণপ্রতি ২৫ থেকে ২৮ হাজার টাকায় পাইকারি বিক্রি হচ্ছে। বিভিন্ন কোম্পানি চাষিদের কাছ থেকে সরাসরি মধু সংগ্রহ করায় মৌচাষিদের লাভবান হওয়াও নিশ্চিত হয়েছে। তবে কখনো কখনো ফুলের স্বল্পতা দেখা দিলে মৌমাছিকে বাঁচিয়ে রাখতে বাড়তি খাদ্য হিসেবে চিনি খাওয়ানোর প্রয়োজন পড়ে বলে জানান তাঁরা। শরিষা ফুল ফোটার মৌসুম শুরু হলে এই চাষিরা নতুন মধু সংগ্রহের আশায় দেশের বিভিন্ন জেলায় ছুটে যাবেন।

রাংটিয়া বিটের রেঞ্জ কর্মকর্তা আব্দুল করিম বলেন, মৌমাছি উদ্ভিদের বংশবৃদ্ধি ও পরাগায়নে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ফলে পাহাড়ি জীববৈচিত্র্যও টিকে থাকে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ফরহাদ হোসেন জানান, ফসল উৎপাদন বৃদ্ধি ও মানব সভ্যতার অগ্রগতিতে মৌমাছির অবদান অনস্বীকার্য। পরাগায়নের ফলেই ফসলের ফলন বাড়ে। আর মধু যুগ যুগ ধরে নানা রোগ নিরাময়ে ব্যবহৃত হয়ে আসছে।

স্থানীয়দের মতে, প্রাকৃতিক পরিবেশ সুরক্ষিত থাকলে এবং মৌচাষিদের আরও সহায়তা প্রদান করা গেলে গারো পাহাড়ের এই মৌচাষ শিল্প আরও সমৃদ্ধ হবে। এতে যেমন চাষিদের আয় বাড়বে, তেমনি পাহাড়ি পরিবেশও হবে আরও টেকসই।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here