শেরপুরে হাড়কাঁপানো শীত!

7

শেরপুর জেলা জুড়েই এখন চলছে হাড়কাঁপানো শীত! জেলার তিন উপজেলা ঝিনাইগাতী, শ্রীবরদী ও নালিতাবাড়ী গারো পাহাড়ি অঞ্চলে শীতের তীব্রতা আরো ব্যাপক। শৈত্যপ্রবাহ শুরু না হলেও হিমেল হাওয়া, ঘন কুয়াশা রাতভর বৃষ্টির ন্যায় ঝরা কোয়াশায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন। বাতাসের আর্দ্রতায় শীতের অনুভূতিকে আরও তীব্র থেকে তীব্রতর করে তুলেছে।

ঝিনাইগাতী উপজেলার শতবর্ষী ডাঃ আব্দুল বারী দৈনিক ইনকিলাবকে বলেন, গারো পাহাড় সীমান্তে শীতের তীব্রতা জনজীবনকে কার্যত অচল করে তুলেছে। জানা গেছে যে, এখন পর্যন্ত শেরপুর জেলায় যা কম্বল বরাদ্দ পাওয়া গেছে, তা প্রয়োজনের তুলনায় একেবারেই অপ্রতুল। শীতার্ত মানুষদের শীত নিবারণের জন্য পর্যাপ্ত কম্বলসহ শীতবস্ত্র বরাদ্দ প্রয়োজন বলে সাবেক এমপি ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী মাহমুদুল হক রুবেল জানিয়েছেন।

প্রসঙ্গত. শীতের ব্যাপক প্রভাব পড়েছে দিনমজুর শ্রেণির মানুষের জীবনে। প্রচণ্ড ঠান্ডার কারণে অনেকেই কাজে যেতে পারছেন না। আয় বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পরিবার-পরিজন নিয়ে তাদের দিন কাটছে অনিশ্চয়তার মধ্যে। সীমান্তবর্তী শেরপুর জেলায় প্রতি বছরই শৈত্যপ্রবাহে হতদরিদ্র মানুষের কষ্টের সীমা থাকেনা। তাই পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হওয়ার আশঙ্কা করছেন বয়স্ক লোকজন।

অপরদিকে শীতজনিত রোগীর সংখ্যাও বাড়ছে ক্রমাগত ভাবে। জেলা সদর হাসপাতালসহ ৫ টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রতিদিনই বাড়ছে সর্দি, কাশি, জ্বর ও নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। চিকিৎসকদের মতে, শিশু ও বৃদ্ধরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছেন।

জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে যে কম্বল বিতরণ কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। তা গারো পাহাড়াঞ্চলের শীতার্ত মানুষের প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল বলে জানান ইউপি চেয়ারম্যানগণ।

বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির অন্যতম সদস্য ও তিনবারের সাবেক এমপি ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী মোঃ মাহমুদুল হক রুবেল দৈনিক ইনকিলাবকে বলেন গারো পাহাড়ের মানুষের জীবনমান উন্নয়নে সরকারের কার্যকর উদ্যোগ তো বটেই, শীতবস্ত্র ও কম্বল বিতরণ খুব একটা চোখে পড়ছে না। বিশেষ করে এই শীতে দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলের মানুষ চরম কষ্টে রয়েছে। তিনি অবিলম্বে গারো পাহাড় সীমান্তবর্তী ঝিনাইগাতী শ্রীবরদী ও নালিতাবাড়ী উপজেলায় পর্যাপ্ত কম্বলসহ শীতবস্ত্র বরাদ্দের জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন। তিনি ইনকিলাবকে বলেন, শীত যত বাড়ছে। ততই অসহায় হয়ে পড়ছে গারো পাহাড় সীমান্তবর্তী হতদরিদ্র মানুষ! এখন তাদের একমাত্র আশা ও ভরসা দ্রুত ও পর্যাপ্ত শীতবস্ত্র সহায়তা। অপরদিকে প্রচন্ড শীতে বোরো ধানের বীজতলা নষ্ট হয়ে যাবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন কৃষকরা।

এদিকে গারো পাহাড় সীমান্তবর্তী উপজেলা ঝিনাইগাতী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ( ইউএনও) মোঃ আশরাফুল আলম রাসেল দৈনিক ইনকিলাবকে বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে প্রতি দিনই কম্বল বিতরণ করা হচ্ছে। তবে আরো পর্যাপ্ত কম্বলসহ শীত বস্ত্র বরাদ্দ প্রয়োজন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here