Thursday, January 15, 2026
spot_img
Home শেরপুর মাইলফলক-সাইনবোর্ডের প্রাণ ফেরাচ্ছেন সুমন

মাইলফলক-সাইনবোর্ডের প্রাণ ফেরাচ্ছেন সুমন

7
media image
ছবি

 শেরপুর প্রতিনিধি : শেরপুরের নকলা উপজেলায় স্বেচ্ছাশ্রমে ভাঙা ও অস্পষ্ট মাইলফলক এবং সাইনবোর্ড সংস্কার করে দৃষ্টিগোচর করে তুলছেন সুমন মিয়া। নিজ উদ্যোগ ও ব্যক্তিগত খরচে তিনি মহাসড়ক, আঞ্চলিক ও গ্রামীণ সড়কের পাশে দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত এসব মাইলফলক ও দিকনির্দেশনামূলক সাইনবোর্ড পরিষ্কার ও পুনরায় লিখে কার্যকর করে তুলছেন।

নকলা উপজেলার কায়দা উত্তরপাড়া এলাকার শহিদ মিয়ার ছেলে সুমন মিয়া নকলা মডেল পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের একজন কর্মচারী। চাকরির ফাঁকে ও ছুটির দিনে তিনি একটি পুরোনো মোটরসাইকেলে প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম নিয়ে বিভিন্ন সড়কে বের হন। কোথাও ভাঙা বা লেখামুছে যাওয়া মাইলফলক কিংবা সাইনবোর্ড দেখলেই সেখানে থেমে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করে পুনরায় লেখাগুলো স্পষ্ট করে তোলেন।

সুমন মিয়া জানান, কয়েক বছর আগে মোটরসাইকেলে যাত্রী পরিবহনের সময় অস্পষ্ট মাইলফলক ও সাইনবোর্ডের কারণে যাত্রীদের দূরত্ব সম্পর্কে সঠিক তথ্য দিতে না পেরে তিনি নিজেই বিপাকে পড়তেন। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই তার এই উদ্যোগের সূচনা।

তিনি বলেন, সাইনবোর্ড ও মাইলফলক অস্পষ্ট থাকায় যাত্রী, চালক এবং জরুরি সেবায় নিয়োজিত ব্যক্তিরা বিভ্রান্ত হন। এতে দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বাড়ে। তার এই উদ্যোগে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক সাড়া পড়েছে।

সুমন আরও বলেন, মাইলফলক ও সাইনবোর্ডের কাছাকাছি গাছপালা রোপণ থেকে বিরত থাকা কিংবা সরকারি উদ্যোগে তা নিয়ন্ত্রণ করা প্রয়োজন। এতে এসব দিকনির্দেশনামূলক চিহ্ন দীর্ঘদিন দৃশ্যমান থাকবে।

সচেতন মহলের অনেকে জানান, দেশের বিভিন্ন সড়কের পাশে সরকারি খরচে মাইলফলক ও দিকনির্দেশনামূলক সাইনবোর্ড স্থাপন করা হলেও পরবর্তীতে তেমন কোনো তদারকি বা রক্ষণাবেক্ষণ করা হয় না। ফলে অনেক মাইলফলক ও সাইনবোর্ড নষ্ট হয়ে যায় বা ভেঙে মাটিতে পড়ে থাকে। এতে সরকারের সড়ক বিভাগ বা এলজিইডি বিভাগের বিপুল অর্থ অপচয় হয়।

তারা মনে করেন, নিয়মিত পরিষ্কার ও রক্ষণাবেক্ষণের মাধ্যমে এসব সমস্যা সহজেই সমাধান করা সম্ভব এবং সরকারি অর্থের অপচয়ও রোধ করা যাবে। এজন্য দ্রুত দেশের সব সড়কের পাশে থাকা মাইলফলক ও সাইনবোর্ড সংস্কার ও পরিষ্কার করে লেখাগুলো স্পষ্ট করার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here