
শফিউল আলম লাভলু : শেরপুরের নকলা উপজেলায় চলতি রবি মৌসুমে ১২ হাজার ৪২৫ হেক্টর জমিতে বোরো ধান আবাদ করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে কৃষি বিভাগ। এর মধ্যে হাইব্রিড জাতের জন্য ৯ হাজার ৮১০ হেক্টর এবং উফসী জাতের জন্য ২ হাজার ৬১৫ হেক্টর জমি নির্ধারিত হয়েছে। লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবায়নে ইতোমধ্যে কৃষকরা মাঠে নেমে পড়েছেন। সরকারি প্রণোদনার আওতায় এ মৌসুমে উপজেলার ৩ হাজার ২০০ কৃষককে বীজ ও সার সহায়তা দেওয়া হয়েছে।
কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, নির্ধারিত জমিতে চারা রোপণের জন্য কৃষকরা মোট ৬৯৫ হেক্টর জমিতে বীজতলা তৈরি করেছেন। এর মধ্যে হাইব্রিড জাতের বীজতলা ৫৪০ হেক্টর এবং উফসী জাতের বীজতলা ১৪৫ হেক্টর জমিতে করা হয়েছে।
ইতোমধ্যে উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় বোরো চারা রোপণের কাজ শুরু হয়েছে। ভূরদী খন্দকার পাড়া কৃষিপণ্য উৎপাদক কল্যাণ সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি আলহাজ্ব ছাইদুল হক জানান, উত্তরাঞ্চলে কাজ শুরু হলেও দক্ষিণাঞ্চলে আগামী সপ্তাহ থেকে পুরোদমে চারা রোপণ শুরু হবে।
চলতি মৌসুমে সরকারি কৃষি প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় ২ হাজার ৮০০ কৃষককে হাইব্রিড জাতের বীজ এবং ৪০০ কৃষককে উফসী জাতের বীজ ও সার বিতরণ করা হয়েছে।
উপজেলার নবাগত কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. আবদুল ওয়াহেদ খান জানান, বোরো মৌসুমে লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে মাঠপর্যায়ে নিয়মিত তদারকির পাশাপাশি বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। সার, বীজ ও কীটনাশকের কৃত্রিম সংকট ঠেকাতে বাজার ও কৃষিপণ্য বিক্রির দোকানে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। ইতোমধ্যে কয়েকটি দোকানিকে জরিমানা করা হয়েছে এবং সতর্ক করা হয়েছে। মৌসুম শেষ না হওয়া পর্যন্ত এই তদারকি কার্যক্রম চলবে।
তিনি আরও জানান, কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে নকলা উপজেলায় উৎপাদিত বোরো ধান দিয়ে স্থানীয় খাদ্য চাহিদা পূরণের পাশাপাশি অন্যান্য জেলা ও উপজেলাতেও ধান ও চাল সরবরাহ করা সম্ভব হবে।
কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা কৃষিবিদ সাগর চন্দ্র দে বলেন, আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের পাশাপাশি কৃষকরাও লাভবান হবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
কৃষি অফিসের সিটিজেন চার্টার অনুযায়ী, নকলা উপজেলায় ৩২ হাজার ৪৫টি কৃষি পরিবার রয়েছে, যারা ৭৬ হাজার ৯০০ একর আবাদী জমিতে কৃষিকাজ করেন। এর মধ্যে এক ফসলী জমি ২ হাজার ৭৫০ একর, দুই ফসলী জমি ২২ হাজার ৬০০ একর এবং তিন ফসলী জমি ৯ হাজার ৬৫০ একর। উপজেলায় মোট নীট ফসলী জমির পরিমাণ ৩৬ হাজার ২৫০ একর।

