
শেরপুর সংবাদদাতা : শেরপুরের নকলায় অবৈধভাবে পাচারের সময় ৯৮০ বস্তা ইউরিয়া সার জব্দ করেছে কৃষি বিভাগ।
রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে উপজেলার উত্তর বাজার এলাকার পৃথক দুটি স্থানে অভিযান চালিয়ে স্থানীয়দের সহযোগিতায় দুই ট্রাকভর্তি এসব সার জব্দ করা হয়।
কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, নকলা উপজেলার সৃজন এন্টারপ্রাইজ ও মেসার্স খন্দকার শহীদুল ইসলাম নামে দুটি ডিলার পয়েন্টে ট্রাক থেকে ইউরিয়া সার নামানো হচ্ছে—এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উপজেলা প্রশাসন, কৃষি বিভাগ ও পুলিশ যৌথভাবে অভিযান চালায়। এ সময় ট্রাক দুটি থেকে মোট ৯৮০ বস্তা সার জব্দ করা হয়।
নকলা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল ওয়াহেদ জানান, আশুগঞ্জ যমুনা সার কারখানা থেকে সারভর্তি ট্রাক দুটি শেরপুরের ঝিনাইগাতী বাফার জোন পয়েন্টে নামানোর কথা ছিল। তবে ঝিনাইগাতী বাফার জোনের কোনো কর্মকর্তার সঙ্গে যোগসাজশে সারগুলো নকলা ডিলার পয়েন্টে স্থানান্তরের চেষ্টা করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। বর্তমানে ট্রাক দুটি নকলা থানার হেফাজতে রয়েছে এবং এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।
নকলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রিপন চন্দ্র গোপ বলেন, যানজট এড়াতে ট্রাক দুটি থানায় নেওয়া হয়েছে। এখনো লিখিত কোনো জব্দ আদেশ পাওয়া যায়নি। তবে কৃষি কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সংশ্লিষ্ট ডিলাররা প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দেখাতে পারেননি।
নকলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, বাফার জোন উপজেলা প্রশাসনের সরাসরি নিয়ন্ত্রণাধীন নয়। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে এবং তাদের পরামর্শ অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অভিযুক্ত ডিলারদের দাবি, তারা ডিও অনুযায়ী বৈধভাবে সার ক্রয় করেছেন এবং নিয়ম মেনেই তা খালাস করা হচ্ছিল।
শেরপুরে অবৈধভাবে সার মজুদের অভিযোগে ট্রাকভর্তি ইউরিয়া সার জব্দ

শেরপুরের নকলায় সরকারি নীতিমালা তোয়াক্কা না করে অবৈধভাবে সার মজুত ও চড়া মূল্যে বিক্রির অভিযোগে ২৬ টন ইউরিয়া সারসহ একটি ট্রাক জব্দ করা হয়েছে।
২২ ফেব্রুয়ারি রোববার দুপুরে নকলা বাজারের কৃষি ব্যাংকের সামনে থেকে ‘মেসার্স নুসরাত পরিবহন’ নামক একটি ট্রাক তল্লাশি করে এই সার উদ্ধার করা হয়।
ঘটনাস্থল থেকে প্রাপ্ত তথ্যমতে, ঢাকা মেট্রো-ট-২৪-৪০৮৪ নম্বর প্লেটের ওই ট্রাকটি আশুগঞ্জ সার কারখানা থেকে বিএডিস ও বিসিআইসির স্টিকার ব্যবহার করে নকলায় আসে। ট্রাকে থাকা প্রায় ২৬ টন ইউরিয়া সারের স্বপক্ষে চালক বা সংশ্লিষ্ট কেউ বৈধ কোনো কাগজপত্র দেখাতে পারেননি।
স্থানীয়দের অভিযোগ, নকলা বাজারের সার ডিলার শফিকুল ইসলাম অবৈধভাবে এই সারগুলো মজুত করে কৃষকদের কাছে চড়া মূল্যে বিক্রির পায়তারা করছিলেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ট্রাকটি প্রথমে একটি স্থানে লোড-আনলোড করার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়ে পুনরায় অন্য জায়গায় সারের বস্তাগুলো সরানোর সময় জনমনে সন্দেহের সৃষ্টি হয়। খবর পেয়ে স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত হলে চালক ও সারের মালিক কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি। সারগুলো আশুগঞ্জ থেকে অবৈধ পথে আনা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। পরে স্থানীয় পুলিশ ও কৃষক অফিস সারগুলো জব্দ করে।
এ বিষয়ে সন্ধ্যায় উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল ওয়াহিদ খান জানায়, অভিযুক্ত দুই ডিলারকে শোকজ করা হয়েছে এবং সরকারি সার গুদাম বাফার কর্মকর্তাদের ডেকে পাঠানো বলে জানান।
এ বিষয়ে নকলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম জানান, সারের বাজারে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টিকারী এবং অবৈধ মজুতদারদের বিরুদ্ধে এ ধরনের কর্মকাণ্ড মেনে নেওয়া হবে না। কৃষকদের স্বার্থ রক্ষায় আমরা আইনগত ব্যবস্থা নেবো।

